মোবাইলে হেডফোন জ্যাক কমে যাওয়ার পর থেকে তারবিহীন অডিওই এখন স্বাভাবিক। স্পিকার ও ইয়ারফোন ক্যাটাগরিতে ঢুকলে তিন রকম জিনিস চোখে পড়ে — TWS ইয়ারবাড, নেকব্যান্ড আর ওভার-ইয়ার হেডফোন। কোনটা নেবেন তা নির্ভর করে আপনি কোথায়, কতক্ষণ আর কী কাজে ব্যবহার করবেন তার ওপর।
TWS ইয়ারবাড: ছোট, তার নেই, পকেটে থাকে
দুই কানে আলাদা দুটো বাড, সাথে চার্জিং কেস। সবচেয়ে হালকা ও বহনে সহজ। কেসটাই পাওয়ার ব্যাংকের মতো বাডগুলোকে কয়েকবার চার্জ দেয়।
- সুবিধা: কোনো তার নেই, পকেটে ধরে, দেখতে স্মার্ট।
- অসুবিধা: একবারের চার্জে চলার সময় তুলনামূলক কম, ছোট বলে হারানোর ভয় থাকে।
- কার জন্য: অফিস-ক্লাসে যাতায়াত, হাঁটা, হালকা কল ও গান।
কম বাজেটে শুরু করতে পারেন M10 TWS বা M19 LED ডিসপ্লে TWS দিয়ে। গেম খেললে Awei T29 Pro গেমিং TWS, আর নয়েজ কমানোর ফিচার চাইলে E9 Pro ANC+ENC ইয়ারবাড দেখতে পারেন।
নেকব্যান্ড: লম্বা ব্যাটারি, হারানোর ভয় নেই
দুই বাড একটা ব্যান্ডে যুক্ত থাকে, যা ঘাড়ে ঝুলে থাকে। ব্যান্ডের ভেতরে বড় ব্যাটারি থাকায় এক চার্জে অনেকক্ষণ চলে।
- সুবিধা: লম্বা ব্যাটারি, কান থেকে খুললেও ঘাড়ে থাকে, কলের জন্য মাইক মুখের কাছাকাছি।
- অসুবিধা: ঘাড়ে কিছু একটা থাকার অনুভূতি, ব্যাগে রাখলে জায়গা বেশি নেয়।
- কার জন্য: যারা সারাদিন কলে থাকেন, বাইক রাইডার, ডেলিভারি বা ফিল্ডের কাজ, জিম।
দেখুন Lenovo HE05X, UiiSii R05, Moxx BN-100 ও লম্বা প্লেটাইমের RE-NY060 নেকব্যান্ড।
ওভার-ইয়ার হেডফোন: বড় সাউন্ড, লম্বা সময় আরাম
পুরো কান ঢেকে রাখে, ড্রাইভার বড় — তাই বেস ও সাউন্ড সাধারণত বেশি ভরাট লাগে। কানের ভেতরে কিছু ঢোকে না বলে অনেকে লম্বা সময় পরে আরাম পান।
- সুবিধা: ভরাট সাউন্ড, লম্বা ব্যাটারি, অনলাইন ক্লাস ও মুভির জন্য আরামদায়ক।
- অসুবিধা: বড় ও ভারী, গরমে কান ঘামতে পারে, বাইরে বহন করা কম সুবিধার।
- কার জন্য: বাসায় মুভি-গান, অনলাইন ক্লাস, এডিটিং, গেমিং।
কম দামে P47 ও Oraimo OR-880, আর একটু ভালো মানের জন্য Hoco W35 Max দেখতে পারেন।
এক নজরে তুলনা
| বিষয় | TWS ইয়ারবাড | নেকব্যান্ড | হেডফোন |
|---|---|---|---|
| বহন করা | সবচেয়ে সহজ | সহজ | কঠিন |
| এক চার্জে সময় | কম | বেশি | বেশি |
| কল | ভালো | খুব ভালো | ভালো |
| বেস ও সাউন্ড | মাঝারি | মাঝারি | বেশি ভরাট |
| হারানোর ঝুঁকি | বেশি | কম | কম |
| জিম ও দৌড় | ভালো | খুব ভালো | কম সুবিধার |
বক্সের লেখাগুলোর মানে
- ANC (Active Noise Cancellation) — বাইরের শব্দ কমায়, যাতে আপনি পরিষ্কার শোনেন। বাস বা রাস্তার শব্দে কাজে আসে। কম দামের মডেলে এর প্রভাব হালকা হয়, দামি ব্র্যান্ডের মতো আশা করা ঠিক নয়।
- ENC (Environmental Noise Cancellation) — কলের সময় আপনার মাইকের পাশের শব্দ কমায়, যাতে ওপাশের মানুষ আপনাকে পরিষ্কার শোনে।
- গেমিং মোড বা লো ল্যাটেন্সি — ভিডিও ও শব্দের মধ্যে দেরি কমায়। PUBG বা Free Fire খেললে এই ফিচার দেখে নিন।
- Bluetooth ভার্সন — নতুন ভার্সনে সংযোগ সাধারণত বেশি স্থির থাকে ও ব্যাটারি কম খরচ হয়।
- IPX রেটিং — ঘাম ও হালকা পানির ছিটা সহ্য করার ক্ষমতা। রেটিং লেখা না থাকলে বৃষ্টি বা ঘামে সাবধান থাকুন।
বেশি দিন ভালো রাখার উপায়
- ইয়ারবাডের জালিতে ময়লা জমলে শব্দ কমে যায়; শুকনো নরম ব্রাশ দিয়ে মাঝে মাঝে পরিষ্কার করুন।
- সারারাত চার্জে ফেলে রাখবেন না, আর খুব বেশি ওয়াটের ফাস্ট চার্জার দিয়ে ছোট কেস চার্জ না করাই ভালো।
- লম্বা সময় ধরে খুব বেশি ভলিউমে শুনবেন না — কানের ক্ষতি ধীরে ধীরে হয়, টের পাওয়া যায় দেরিতে।
প্রশ্নোত্তর
কলের জন্য সবচেয়ে ভালো কোনটা?
সারাদিন কল করতে হলে নেকব্যান্ড সবচেয়ে সুবিধার — ব্যাটারি লম্বা আর মাইক মুখের কাছে থাকে।
এক কানের বাড হারিয়ে গেলে কি চলবে?
বেশিরভাগ TWS-এ একটা বাড আলাদাভাবে ব্যবহার করা যায়, তবে স্টেরিও সাউন্ড পাবেন না। তাই ব্যবহারের পর বাড সবসময় কেসে রাখার অভ্যাস করুন।
iPhone আর Android দুটোতেই কি চলে?
হ্যাঁ, ব্লুটুথ ইয়ারবাড, নেকব্যান্ড ও হেডফোন দুই ধরনের ফোনেই চলে।






