শীতে শিশুর যত্নের মূল কথা দুটো — শিশুকে গরম রাখা, আর অতিরিক্ত গরম না করা। নিচের চেকলিস্ট ও টিপসগুলো সাধারণ যত্নের জন্য। শিশুর জ্বর, শ্বাসকষ্ট, খেতে না চাওয়া বা অন্য কোনো অসুস্থতা দেখা দিলে দেরি না করে শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
শীতের আগে গুছিয়ে রাখুন: চেকলিস্ট
| জিনিস | কেন লাগে |
|---|---|
| নরম সুতির ভেতরের জামা | ত্বকের সাথে লাগানো স্তর; ঘাম শুষে নেয় |
| সোয়েটার বা ফ্লিসের রম্পার | মাঝের গরম স্তর |
| কান ঢাকা টুপি | মাথা ও কান দিয়ে শরীরের তাপ দ্রুত বের হয় |
| মোজা ও হাতমোজা | হাত-পা সবার আগে ঠান্ডা হয় |
| নরম কম্বল বা স্লিপিং ব্যাগ | ঘুমের সময় ও বাইরে বের হলে |
| বোতল ওয়ার্মার, ফ্লাস্ক | রাতে ও বাইরে কুসুম গরম খাবার-পানি |
| শিশুর উপযোগী ময়েশ্চারাইজার | শীতে ত্বক দ্রুত শুষ্ক হয় |
BDPlas-এর শীতের শিশু সামগ্রী ক্যাটাগরিতে এই জিনিসগুলো শীঘ্রই আসছে — যেমন ফ্লিস হুডেড রম্পার, বেবি সোয়েটার সেট, কান ঢাকা উলের টুপি, অ্যান্টি-স্লিপ মোজা, নবজাতকের নরম কম্বল ও ফ্লিস স্লিপিং ব্যাগ। পণ্যের পেজে গিয়ে স্টক এলে জানানোর অনুরোধ দিয়ে রাখতে পারেন।
১০টি জরুরি টিপস
- এক মোটা কাপড়ের চেয়ে কয়েকটা পাতলা স্তর ভালো। ভেতরে সুতি, তার ওপর সোয়েটার বা ফ্লিস। গরম লাগলে একটা স্তর খুলে ফেলা যায়।
- বড়দের চেয়ে এক স্তর বেশি। সাধারণ নিয়ম হিসেবে, একই ঘরে আপনি যা পরে আরাম পাচ্ছেন, শিশুকে তার চেয়ে এক স্তর বেশি পরান।
- ঘাড় ও পিঠ ছুঁয়ে দেখুন। হাত-পা ঠান্ডা লাগা স্বাভাবিক। ঘাড় বা পিঠ ঘামে ভেজা থাকলে কাপড় বেশি হয়ে গেছে; ঠান্ডা লাগলে একটা স্তর বাড়ান।
- ভেজা কাপড় সাথে সাথে বদলান। ঘাম, দুধ বা প্রস্রাবে ভেজা কাপড় থেকেই ঠান্ডা সবচেয়ে বেশি লাগে।
- ত্বকের সাথে উল সরাসরি নয়। উলের জামার নিচে সবসময় সুতির জামা পরান, নইলে চুলকানি ও র্যাশ হতে পারে।
- গোসল অল্প সময়ে, কুসুম গরম পানিতে। দুপুরের দিকে রোদ থাকতে গোসল করান, দরজা-জানালা বন্ধ রাখুন, শেষ হলে দ্রুত মুছে কাপড় পরান।
- গোসলের পরপরই ময়েশ্চারাইজার। ত্বক একটু ভেজা থাকতে শিশুর উপযোগী লোশন বা তেল লাগালে আর্দ্রতা ধরে থাকে।
- সকালের হালকা রোদ। সম্ভব হলে প্রতিদিন কিছুক্ষণ সকালের নরম রোদে রাখুন, তবে চোখে সরাসরি রোদ যেন না লাগে।
- ঘুমের জায়গা নিরাপদ রাখুন। ছোট শিশুর মুখের কাছে ভারী কম্বল, বালিশ বা ঢিলা কাপড় রাখবেন না। মুখ ঢেকে যাওয়ার ঝুঁকি এড়াতে গায়ে পরানো স্লিপিং ব্যাগ ভারী কম্বলের চেয়ে নিরাপদ।
- ঘরের বাতাস খুব শুষ্ক হতে দেবেন না। হিটার চালালে ঘরের বাতাস শুকিয়ে যায়, শিশুর নাক বন্ধ হতে পারে। ঘরে একটু বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন।
হট ওয়াটার ব্যাগ ও হিটার ব্যবহারে সাবধানতা
- হট ওয়াটার ব্যাগ কখনো শিশুর গায়ে সরাসরি দেবেন না। বিছানা আগে গরম করে নিয়ে শিশুকে শোয়ানোর আগে ব্যাগ সরিয়ে ফেলুন।
- রুম হিটার শিশুর নাগালের বাইরে রাখুন, আর কাপড়, পর্দা বা বিছানা থেকে দূরে।
- বোতল ওয়ার্মারে গরম করা দুধ বা পানি খাওয়ানোর আগে নিজের কবজিতে কয়েক ফোঁটা ফেলে তাপমাত্রা দেখে নিন।
বাইরে বের হলে
টুপি, মোজা ও একটা বাড়তি কম্বল সাথে রাখুন। গাড়ি বা রিকশায় বাতাস সরাসরি মুখে লাগে, তাই সামনের দিকটা ঢেকে নিন, তবে নাক-মুখ খোলা রাখুন। কুসুম গরম পানি বা খাবার নিতে স্ট্র সহ থার্মোস বোতল কাজে আসে।
প্রশ্নোত্তর
শীতে কি শিশুকে প্রতিদিন গোসল করানো দরকার?
প্রতিদিন পুরো গোসল জরুরি নয়। খুব ঠান্ডার দিনে কুসুম গরম পানিতে ভেজানো নরম কাপড় দিয়ে শরীর মুছে দিলেও চলে। শিশুর বয়স ও স্বাস্থ্য অনুযায়ী ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
রাতে ঘুমের সময় কি টুপি ও মোজা পরিয়ে রাখব?
ঘর খুব ঠান্ডা হলে মোজা রাখা যায়। তবে ঘরের ভেতর ঘুমের সময় মোটা টুপি পরিয়ে রাখলে শিশু বেশি গরম হয়ে যেতে পারে — ঘাড় ছুঁয়ে দেখে ঠিক করুন।
এই পণ্যগুলো কবে থেকে অর্ডার করা যাবে?
শীতের শিশু সামগ্রীগুলো এখন Coming Soon হিসেবে আছে। স্টক এলেই অর্ডার নেওয়া শুরু হবে; বেবি ও কিডস ক্যাটাগরিতে চোখ রাখুন।






